Jan 6, 2018

কমলদহ ট্রিপ [৩১ ডিসেম্বর ২০১৭]

৩১ ডিসেম্বর তেমন কোন প্ল্যান ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত কিছুই ছিল না। দ্বিধাই ছিলাম এক প্রকার এবছর কি ৩১ ডিসেম্বর পালন করা হবে না? 
৩০ ডিসেম্বর টং এ বসে বসে ভাবছিলাম এসব। এমন সময় বন্ধু সুদীপ্ত এসে হাজির,''দোস্ত,চল এবার ৩১ ডিসেম্বর ঝর্ণা দেখে পালন করি'' 
আমি বললাম, কিসের ঝর্ণা। 
সুদিপ্তঃ নাপিত্তাছড়া আছে , কমলদহ আসে , কোনটাতে যাবি বল?
আমিঃ সবাই মিলে সিদ্বান্ত করি। আর কে কে যাবি?
প্রীতম রাজি, স্বার্থক ও মোটামুটি, জিকু তো রীতিমতো লাফাচ্ছে। 
এরপর পরের দিন ৮ টার ট্রেন , যেটা মিস হয়ে গেসে । এর পরের ট্রেন ১০ টায় । বসে আছি , এদিক সেদিক ঘুরছি। ট্রেন এল, চড়ে বসলাম। 
ঘন্টা খানেক পর সীতাকুন্ড পোঁছালাম,সেখান থেকে টমটম করে বিশ্বরোড। এর পরে হেঁটে হেঁটে অনেক দূর পথ অতিক্রম। বিশ্বাস করা যায় এত পথ কেমনে এসেছি। আসলে ঝর্না দেখেছি সেই ছোট বেলায়, তাই দেখার তীব্র ইচ্ছা টেনে নিয়ে যাচ্ছে। আসলেই কি দেখার তীব্র ইচ্ছা নাকি অন্য কিছু?
দেখা যাক ।
অবশেষে সব ধরণের ফটো সেশ্অন শেষ করে ঝর্ণার দেখা। 
একি! পানি তো নেই । কষ্ট লাগলো খুব, যেহেতু শীতকাল, আসার সময় সবাই বলেছিল, আমরা পাত্তা দি নাই। এর পর বন্ধু সুদিপ্ত বলে উপরে আরো ঝর্না আছে, গিয়ে দেখি চল , পানি পেলেও পেতে পারি। 
তার কথা অনেক কষ্ট করে উপরে উঠলাম। উঠে ঝিরি ঝিরি পানির স্রোতের মধ্য দিয়ে অন্য ঝর্নার উদ্দেশ্যে যাত্রা। 
আরো ১ ঘন্টা পর পোঁছালাম। মন কিছুটা হলেও খুশি অল্প পানি দেখে। 
যাক পেলাম পানির দেখা। এখানে অনেক ক্ষ্ণ সময় পার করলাম। প্রকৃতি উপভোগ করলাম। .
বিকাল হবে হ বে। তাই চলে যাওয়া ভাল মনে করে ফিরতি রওনা দিলাম। 
সব ঠিক ঠাক। নিচে নামতে আর মাত্র দুইটা ঝর্ণা পার করলেই। বন্ধু সুদিপ্ত একটু দ্বিধাই ! যেদিক এ উঠসে সেদিকে নামবে নাকি অন্য দিকে, তখনই আমি তাকে একটা পথ দেখালাম, আজব সে হুট করে কথা বার্তা ছাড়া নেমেই গেল। আমরা চারজন পিছনে, প্রীতম,জিকু, স্বার্থক, ওইদিকে নামবে না। তারা পাহাড় বেয়ে নামবে। আমি বসে আছি। ভাবছি কোন দিকে নামা যায়।
হঠাৎ, গেলাম পা ফোঁসকে পরে। কোথা থেকে জানেন? সেই দুই ধাপ ঝর্ণার উপর থেকে। এদিক সেদিক না, সোজা পানিতে !!!
ধপাস করে শব্দ । উপর থেকে তিনজন তো আমাকে খুঁজে পাই না। পানিতে ন্যাকানি চুবানি খেতে খেতে আমি শুধু সুদিপ্ত কেই দেখতে পাচ্ছিলাম। আমার মুখে তখন শুধু, ''মামু,বাঁচা !! মামু বাঁচা !!''
সুদিপ্ত কে আমরা 'মামু' বলে ডাকি। কথায় আছে না মামা ভাইগ্না যেখানে বিপদ নাই সেখানে।
অনেক কষ্ট হয়েছিল, আমার লাইফের সেই ৫ মিনিট ভুলবার না। মামুর উপস্থিত বুদ্ধি আর আমার একসময় এর সাঁতার শেখার তীব্র ইচ্ছা আমাকে বাচিয়ে ফিরতে সাহায্য করেছে। 

ধন্যবাদ সেই মামু নামে পরিচিত বন্ধু সুদিপ্ত দত্ত। 

আবার যাওয়ার ইচ্ছা রাখি কমল দহ ঝর্না দেখতে! তবে এবার নিশ্চয় সাঁতার শিখে। আপাতত ভয়ানক অভিজ্ঞতা গুটিয়ে রাখা ভাল। 



প্রকৃতির অপরুপ কমলদহ ঝর্ণা। 

ট্রেনে কমলদহ যাওয়ার সময়। ডানে সুদিপ্ত, মাঝখানে আমি, বামে জিকু। 

অবশেষে পানির দেখা পেয়ে ছবি তুলে নিলাম

কমলদহ এর আশেপাশে কোথাও দাঁড়িয়ে ছবি তুলছিলাম

আমরা এই ঝর্ণার পানিতেই খুশি ছিলাম

কমলদহ 

ঝিরি পথে বসে ছবি, আমি, জিকু, প্রীতম, স্বার্থক























Sep 9, 2017

প্রতিভার সুপ্ত বীজ

ছোট বেলায় যখন জিজ্ঞেস করা হতো বড় হয়ে কি হতে চাও???
তখন স্বাভাবিক ভাবেই ছোট্ট থাকা অবস্থায় সকলের কম বেশি উত্তর হতো ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার কিংবা হাতে গণা কয়েকজন বলতো উকিল।
কিন্তু যখন ছোট্ট থাকে তখন এই ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার-উকিল হবার ইচ্ছা জাগ্রত থাকে, যখন বড় হয়ে যায়, ধাপে ধাপে এসব হবার নিকটে চলে আসে, তখন না চাইলেও অনেককে এসব ইচ্ছার গলা চেপে হত্যা করে ফেলতে হয়।
কারণ টা হইতো বাংলাদেশের সকল শিক্ষার্থীদের কাছে পরিষ্কার।
আচ্ছা আপনি কি জানেন আপনার প্রতিভা কিসের মধ্যে? পড়ালেখা? গান? নাচ? গ্রাফিক্স? নাকি কম্পিউটার প্রোগ্রামিং?  নাকি খেলাধুলা?
দেখা যাবে এসব একটা বা অন্য কিছুর মধ্যেই আপনার প্রতিভা সুপ্ত। কিন্তু খুঁজে বের করে নিতে হলে সাহায্যের প্রয়োজন। কারন আজকের দুনিয়াই মানুষ প্রতিভা দিয়ে যাচিত হই না, যাচিত হই তার জ্ঞান আর গাদাগাদা পড়া মুখস্থ করে কত টাকার বেতনের চাকরি করছে তার মধ্য দিয়ে।
আবার এমনও হই, দেখবেন লক্ষ্য করলে একজন ডিগ্রি প্রাপ্ত ইঞ্জিনিয়ার বেতন পাচ্ছে ৩০,০০০ টাকা। অন্যদিকে হইতো তার বাড়ির এক সমবয়সী যে কিনা অষ্টম শ্রেণী তে ৩ বার ফেইল সে কামাচ্ছে ১,৫০,০০০ টাকা। তফাৎ একটাই, একজন এসিতে বসে শার্টের হাতা বটে কফির কাপে চুমুক দিয়ে বেতন গুনছেন। আরেকজন দূর দেশে রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে টাকা কামিয়ে তা দেশে পাঠিয়ে লাখ টাকাই রুপান্তর করছে।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে,সমাজ কাকে বেশি সম্মান এর জায়গা দিবে বলে আপনার মনে হয়?
যদিও উত্তর এ ভিন্নমত থাকতে পারে। তবুও এসব দিকে বিবেচনা না করাই শ্রেয়।
ফেরা যাক মূল প্রসঙে। প্রতিভা!!  এ এক মহাকাশের তারা। চাইলেই পাওয়া যায় না।
অনেক কষ্ট পরিশ্রম করতে হয় আবার হয় না। কারণ, ওই যে বললাম। সাহায্যের ব্যতীত খুঁজে বের করা সহজ না কিংবা সাহায্য ব্যতীত বের করতে হলে সময় সাপেক্ষীক।  ফুটবলার লিওনেল মেসি তার প্রতিভার ব্যাপারে জেনেছে সেই ছোট্ট বয়সে, অন্য দিকে কেনটাকি তে অবস্থিত কেএফসি এর মালিক তার প্রতিভা খুঁজে বের করতে তার জীবনের ৬৪ টা বছর অপচয় করেন। দেখুন!!!

শিক্ষাই মুল লক্ষ্য নাকি গবেষণা?

আমাদের দেশের মানুষদের এখন মুখে মুখে শুধু পিএসসি ২০০৯,জেএসসি ২০১২ , এসএসসি ২০১৫, এইচএসসি ২০১৭ ব্যাচ এর জন্য একটাই পরিচয়। ''গিনিপিগ''
কেন জানেন ??? যে বয়সে বাচ্চা দের পরীক্ষা কি জিনিস তা বুঝে উঠা হই , ভয় লাগা লেগে থাকে ,সেই বয়স থেকেই কিনা বাংলাদেশ এ এই ব্যাচ এর জন্য আয়োজন করা হয়েছিল পিএসসি পরীক্ষা।